Socialize

অমাবস্যার চাঁদ পর্ব ৪

অমাবস্যার চাঁদ
পর্ব ০৪
writer Tanishq Sheikh Tani
রবিন রাঙামাটি পৌঁছে স্থানীয় ওসির সাথে প্রাথমিক আলাপচারিতা শেষ করে।পরদিন ওসির সহযোগিতায় সাহির খানের বাংলো বাড়িতে আসে রবিন।সাথে আছে দুজন কনস্টেবল।ঘুরে ঘুরে সব দেখে।ঘরের ভেতরটা দেখে কিছুটা চিন্তিত হয়ে রবিন বাইরে চলে আসে।বাইরের অনেকক্ষণ হাটাহাটি করে হঠাৎ কি একটা দেখে হাতে তুলে নেয়।কপাল কুঁচকে যায় রবিনের।দ্রুত পায়ে সামনে এগোয়।যেখান থেকে মেহেরকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল ঠিক সেখানে এসে দাঁড়ায়। আশেপাশে তাকানোর এক পর্যায়ে নিচের ডালটার দিকে চোখ পড়তেই কনস্টেবল দুজনকে ডেকে আনে।এর মধ্যে হঠাৎ মোবাইলটা বেজে ওঠে রবিনের।হাজারটা চিন্তা ভেদ করে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়।
বল রণ! রবিন গম্ভীরমুখে বলে
রবিন মেহের তো বাসায় ফিরেছে।
হোয়াট! রবিন এতোটাই আশ্চর্য হয়ে হোয়াট বলে যে উপস্থিত সবাই হা করে তাকিয়ে থাকে।
রবিন সবার কাছ থেকে দূরে গিয়ে রণর সাথে কথা বলে।
রণ তুই কি সিওর মেহের বাড়ি ফিরেছে?
আরে সিওর কি বলছিস? এই যে ওর বাসায় ই তো আমি আছি।অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম তখনই মাহিদা আন্টি কল করে বিষয়টা জানালো।বললো একবার যেন তুই আর আমি আসি।তোকেও নাকি অনেকবার কল করেছিলো কিন্তু তুই কল রিসিভ করিস নাই।মেহের ফিরেছে কথাটা শুনে আমি এতোটাই আশ্চর্য হই যে ততক্ষনাৎ এখানে চলে আসি।
মেহের কি করছে এখন?
এটা কি ধরনের প্রশ্ন রে?
যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দে।
রিলাক্স ম্যান।বলছি বলছি।ও এখন ঐ বুড়ির দিকে তাকিয়ে হাসছে।
বুড়ি?
ওহ! হ্যাঁ মেহেরের সাথে একটা বুড়িও এসেছে বুঝলি।একদম ৮০ইর উর্ধ্বে বয়স হবে।ভারতের রাজস্থানের বয়স্ক মহিলারা যেমনভাবে ঘাগড়া চোলি পড়ে নাকে ইয়া বড় নাকফুল।মুখে কিসের যেন ফোটা ফোটা। হাতে পায়ে মোটা বেড়ির মতো চুড়ি।বয়স হইলে কি হবে? বুড়ির মনে হয় সাজগোজের দারুন শখ।মুখটিপে হাসতে গিয়ে আবার কেশে ওঠে রণ।
কি রে কি হলো তোর?
দোস্ত তোর বোন হঠাৎ করে আমার দিকে যেমনে তাকিয়ে আছে যেন আমি ওর নামে কি বলে ফেলেছি?
বলেছিস ই তো?
কবে বললাম?
আচ্ছা বাদ দে!ওর সামনে থেকে সরে বাইরে আয়। একটা কথা বল তো রণ।
কি!
মেহেরের শরীরে কি কোন ক্ষত আছে? অসুস্থ লাগছে ওকে
একদমই না।পুরো ফিট।তবে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে সবার দিকে।
হুমম।আচ্ছা আমি আজ রাতেই রওনা দেবো।তুই সকালেই আন্টির বাসায় ব্যাগ পত্তর নিয়ে চলে আসবি।
কেন?
আন্টির বাসায় থাকবো ৫/১০ দিন।
আরে কি বলছিস আন্টির বাসায় তো অলরেডি মেহমানে গিজগিজ করছে তারমধ্যে আমরা এসে আস্তানা গারলে কেমন দেখায় না?
মেহমানে গিজগিজ করছে মানে কি? তুই তো বললি বয়স্ক মহিলা এসেছে একজন।
আরে সম্পূর্ণ ডিটেইলসই তো বলি নাই।মেহের নাকি একা একা রাঙামাটি ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল পরে বুড়িই ওকে পেয়ে নিয়ে আসে এখানে।এই হলো কাহিনি এবার শোন কে কে এসেছে? বুড়ি আর বুড়ির নাতনী যদিও নাতনীকে এখনও দেখার সৌভাগ্য হয়নি।
বয়স্ক মহিলার নাতনীও এসেছে? দেখার সৌভাগ্য হয় নি কেন?
কারন মেয়েটা কারো সামনে নাকি আসে না।
ওহ! পর্দা করে মনে হয়।
আরে না
তবে? আর তুই তো বললি দেখিস নি। পর্দা করে না সেটা কি করে জানলি?
চেহারা দেখিনি তবে পুলিশ যেহেতু আমি সবকিছু দেখেশুনে নেওয়া আমার দায়িত্ব তাই না বল।লুকিয়ে উঁকি দিয়েছিলাম তখন দেখলাম পাহাড়ি মেয়েদের মতো পোষাকে কোমড় পর্যন্ত চুল বেনী করা ১৬/১৭ বছরের এক যুবতি দাড়িয়ে আছে ঘরের ভেতর জানালার বাইরে মুখ করে।
হ্যাঁলো! হ্যালো রবিন! রবিন
কেটে দিয়েছে কল?
রণ কানের কাছে হঠাৎ এমন আওয়াজ শুনে লাফ দিয়ে সরে যায়।
ভয় পেয়েছেন রণ সাহেব?
আরে মেহের? তুমি তো ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে?
রণ আমতা আমতা করে বলে।কারন এর আগে কখনও মেহেরের সাথে কথা বলে নি রণ।বলে নি এমন না মনে মনে ইচ্ছা করতো বলতে কিন্তু বলার সাহস পেত না।মেহেরকে পছন্দ করতো খুব তাইতো যখন মেহের নিখোঁজের কথা শুনলো মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু কাওকে বোঝায় নি।যদিও রণ জানে রবিন এসব ভালো করেই বোঝে।
আমাকে দেখলে ভয় পান বুঝি আপনি? মুখটা কালো করে প্রশ্ন করে মেহের
আরে না! না! আসলে হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করেছো তো তাই চমকে গিয়েছি।
ওহ! মেহের ঘার বেঁকিয়ে রণোর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে চোখের দিকে তাকাতেই রণোর বুকে কম্পন শুরু হয়।হার্টবিট করতে থাকে দ্রুত।মনে হচ্ছে সমস্ত শরীরে নেশা ধরেছে।নেশা করলে মানুষ যেমন সব ভুলে যায়। রণোও সব ভুলে যাচ্ছে।
মেহের! বুড়ির ডাকে মেহের ঘার ঘুরাতেই বুড়ি মৃদু হেসে মেহেরকে কাছে ডাকে।
মেহের আরেকবার রণোর দিকে তাকিয়ে দ্রুত পায়ে বুড়িকে অনুসরণ করে ভেতরে চলে যায়
রণোর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।মাথাটা ঝাঁকিয়ে চোখ হাত দিয়ে ঢলে সামনে তাকাতেই দেখে সব স্বাভাবিক। কিন্তু একটু আগে কি হয়েছিল।মেহেরের চোখে কি ছিল? এমন লাগছিলো কেন শরীর? রণো আর একমিনিটও ভাবে না।চলে আসে মাহিদা চৌধুরীর বাড়ি থেকে।
মাহিদা চৌধুরী মেয়ের সাথে আসা অতিথিদের সর্বোচ্চ আতিথেয়তা করে।মেহেরের কথায় তাদের কিছুদিন থেকে যাওয়ারও অনুরোধ করে।গেস্ট রুমটা তৈরি করে দেয় থাকার জন্য। খাবার টেবিলে সবাই বসে।এক এক করে সবাইকে খাবার সার্ভ করে কাজের লোক।মেহেরের পছন্দের সব খাবার বানায় মাহিদা চৌধুরী। ভেজিটেবল স্যালাড,ভেজিটেবল সুপ,সয়াবড়ির বিরিয়ানী আরও অনেক কিছু।মেহেরের পাতে তুলে দেবে তখনি মেহের সামনে থাকা মুরগির লেগ পিসটা নিয়ে খাওয়া শুরু করে।চোখ বড় বড় করে পরম আত্মতৃপ্তিতে খেতে থাকে পিসটা।
উপস্থিত চাকরবাকর, মাহিদা চৌধুরী নিজেও চরম অবাক হয়।যে মেয়েকে গত ১০ বছরের একবারও মাংসের ধারের কাছে যেতে দেখে নি সেই মেয়ে আজ মাংস খাচ্ছে। তাও পরম তৃপ্তিতে।মেহেরের মাংস তে চরম অভুক্তি।কোনোরকমের মাংস সে খায় না।ছোট বেলায় জোর করে খাওয়াতো কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাংস খাওয়ার রুচিও যেন কমতে থাকে।ডাক্তারের কাছে নিয়েও কোনো লাভ হয় হয়নি।মাংস খেলেই নাকি ওর পেট খারাপ হয়।প্রচন্ড অভুক্তি থেকেই এমনটা হয় বলে মনে করেন মাহিদা চৌধুরী। একসময় নিজেও আর চেষ্টা করেন নি মেয়েকে মাংস খাওয়াতে।রুচিতে না টানলে জোর করে লাভ কি? কিন্তু আজ হঠাৎ মেয়ের এমন পরিবর্তনে প্রচন্ড অবাকই হয় মাহিদা চৌধুরী। তবুও কিছু বলে না মেয়েকে।চুপচাপ বসে মেয়ের খাওয়া দেখতে থাকে।
আম্মা দাদীজানের সাথে যে আপা আসছে তার খাবার কি ঘরে দিয়ে আসবো?
হঠাৎ কাজের মেয়ে লিপির কথায় মেয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে খাবার টেবিলে বসা বুড়ির দিকে তাকায়।
কেন? তাকে ডাক।
ডাকছি উত্তর নেয় না।
আচ্ছা দাড়া! চাচী! আপনার নাতনী কি খাবে না?
খাইবো! তার খাবার ঘরে পাডাই দ্যান।সে সবার সামতে আসে না।মাংস গুলো হাড্ডি থেকে ছিড়ে ছিড়ে চটকে মুখে দিতে দিতে জবাব দেয় বুড়ি।
ওহ! লজ্জা পাচ্ছে বুঝি? আমি গিয়ে বুঝিয়ে নিয়ে আছি তাহলে?
চলবে..............