পর্ব ৭ সমাপ্ত
writer Tanishq Sheikh Tani
writer Tanishq Sheikh Tani
কানাইয়ের কথায় কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম আমি।তবে সেটা ওকে বুঝতে দিলাম না।কি করবো দাড়িয়ে দাড়িয়ে সেটাই ভাবছিলাম দুজন।হঠাৎ বাম দিকের যাওয়া দলের মুবিন দৌড়ে এলো।মুবিন স্থানীয় হতদরিদ্র মুদি দোকানদার।
বাবু! ঐদিক চলেন।ঐদিকের গুহা থেকেই শব্দ আইতাছে।
চলো! যেতে যেতে মুবিনের সঙ্গীর কথা জিজ্ঞেস করলাম।মুবিন বললো সেও অন্য দলকে ডাকতে গেছে।মুবিন গাছের গায়ে দাগ কেটে কেটে রাস্তা ঠিক করে রেখেছিল।আমরা সেপথ দিয়েই এগিয়ে চলছি।
গুহার সামনে আসতেই সবাই এক হয়ে নতুন করে সব পরিকল্পনা আবার শর্টকাটে আলোচনা করে নিলাম।বৃষ্টিটা এখন গতি কমিয়ে ঝিরিঝিরি হয়ে ঝরছে।আকাশের দিকে তাকাতেই গায়ে কাটা দিলো চাঁদ টা দেখে।মনে হলো এই রাতটা নয় এই চাঁদ টাও যেন ভয়ানক রূপ ধারন করেছে আজ।
সবাই মিলে গুহার দিকে হেটে চলছি টর্চের আলোয়।যতোই যাচ্ছি ততই শীত শীত অনুভত হতে লাগলো।একপর্যায়ে নাকে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে মাটির উৎকট গন্ধ এসে নাকে লাগলো।এছাড়াও বাদুরের মলের ছড়াছড়ি যেন সর্বত্র। দেয়ালে গায়ে গায়ে বাদুর লেপ্টে আছে এমন লাগছে।গা ছমছমে পরিবেশ। মনে হচ্ছে এই বুঝি কোনো বিপদ এসে ঝাপিয়ে পড়বে।ধীর পায়ে অতি সাবধানে সামনে এগোচ্ছি। মন্ত্র পাঠ এখন অনেকটা স্পষ্ট।সুরে তালে বোঝায় যাচ্ছে কোনো অশুভ শক্তিকে ডাকা হচ্ছে। হঠাৎই থেমে গেলো মন্ত্র পাঠ।থমথমে একটা পরিবেশ তৈরি হলো।ভারী হয়ে উঠলো গুহার পরিবেশ।
গুহার সামনে আসতেই সবাই এক হয়ে নতুন করে সব পরিকল্পনা আবার শর্টকাটে আলোচনা করে নিলাম।বৃষ্টিটা এখন গতি কমিয়ে ঝিরিঝিরি হয়ে ঝরছে।আকাশের দিকে তাকাতেই গায়ে কাটা দিলো চাঁদ টা দেখে।মনে হলো এই রাতটা নয় এই চাঁদ টাও যেন ভয়ানক রূপ ধারন করেছে আজ।
সবাই মিলে গুহার দিকে হেটে চলছি টর্চের আলোয়।যতোই যাচ্ছি ততই শীত শীত অনুভত হতে লাগলো।একপর্যায়ে নাকে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে মাটির উৎকট গন্ধ এসে নাকে লাগলো।এছাড়াও বাদুরের মলের ছড়াছড়ি যেন সর্বত্র। দেয়ালে গায়ে গায়ে বাদুর লেপ্টে আছে এমন লাগছে।গা ছমছমে পরিবেশ। মনে হচ্ছে এই বুঝি কোনো বিপদ এসে ঝাপিয়ে পড়বে।ধীর পায়ে অতি সাবধানে সামনে এগোচ্ছি। মন্ত্র পাঠ এখন অনেকটা স্পষ্ট।সুরে তালে বোঝায় যাচ্ছে কোনো অশুভ শক্তিকে ডাকা হচ্ছে। হঠাৎই থেমে গেলো মন্ত্র পাঠ।থমথমে একটা পরিবেশ তৈরি হলো।ভারী হয়ে উঠলো গুহার পরিবেশ।
বাবু! ঐ যে দেখুন আলো দেখা যাচ্ছে। কানাইয়ের কথায় ভাবনার বেড়াজাল ভাঙলো আমার।হ্যাঁ সামনে মশালের আলোয় আলোকিত।
আমি তাদের সতর্ক করে সামনে এগোতে লাগলাম।আলো অনুসরণ করে একটা ঘেরা আস্তানায় প্রবেশ করতেই উপস্থিত সবার চোখ কপালে কারন সেখানে কানাইয়ের ৩ বছরের বাচ্চা মেয়ে কাকনের মস্তকহীন লাশ পড়ে আছে।কানাই স্তব্ধ হয়ে রইলো। কান্না চিৎকার সব ভুলে গেলো। একজন কানাইকে ধরে বসিয়ে দিতেই সে শব্দ করে কাদতে লাগলো। আর তাতেই কাকনের লাশের সামনের কালো জিনিসটা নড়েচড়ে উঠলো।মুহুর্তে সবার দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ হতেই দেখা গেলো একজন ৩০উর্ধ মহিলা মুখে রক্ত মাথা বিভৎস দৃষ্টিতে ওদের দিকেই তাকিয়ে আছে।
সফুরণ! তুই মুবিন আচমকাই পেছন থেকে ডেকে উঠলো।
এবার সবাই মুবিনের দিকে প্রশ্নাতীত চোখে তাকালো। মুবিন দৌড়ে সফুরণের কাছে যেতেই সফুরণ হেলে দাড়িয়ে রইলো।
ওরে কুলক্ষনি! একি সব্বনাশে কাজ করলি তুই। (মারতে উদ্যত হয়)
এই মিনসে আসিস নে আমার কাছে সর! সর! সর।তুই আমাকে একটা সন্তান তো দিতে পারলি না আজ পর্যন্ত। খোজার ঘরে খোজা।মর তুই মর।তোর কারনে মা ডাক শুনতে পারি না।আমার সন্তান হয় না।আমারে মা কইয়াও ডাকে না।
এবার আমি বুঝতে পারি সফরুন মুবিনের বউ।বিয়ের ৩৫ বছরেও একটা সন্তানের মুখ দেখতে পাই নি দুজন।এ নিয়ে একদিন নিজের কষ্টের কথাও বলেছিল মুবিন আমাকে।ওর স্ত্রী যে এই শোকে ইদানিং উদ্ভট ব্যবহারও করে সে কথাও বলেছিল মুবিন। কিন্তু পরিস্থিতি যে এমন রূপ নেবে তা হয়তো কেউ স্বপ্নেও ভাবে নাই।
ওরে সফুরণ আল্লাহ চাই নাই তাই কপালে সন্তান ভাগ্য নাই আমাগের।তাই বইলা তুই এমন পাপ করবি রে।আমি কি তোরে ভালোবাসি না ক।
আমি পাপ পূন্য কিছুই বুঝি না।আমার সন্তান লাগবো সন্তান। ও গো! তুমিও আমার সাথে পূজা করো শয়তানের।দেখবে ঠিক আমাদের এক্কান সন্তান হবে।রক্ত মাখা মুখে হাসি নিয়ে স্বামীর হাত ধরে বলে
শয়তানের পূজা করে কখনো সুখী হওয়া যায় না সফুরণ।ধ্বংস ছাড়া কিছুই নেই ওর মধ্যে। ফিরে আসো।ক্ষমা চাও
ঐ মিনসে চুপ কর।আমার সুখ আমি খুজে নিয়েছি।আমি অনেক সুখী এখন।অনেক।আমি মা হইতে পারুম না তাইলে কাউরে হইবার দিতাম না।আমারে যে মা না কইবো তার কইজা ছিইড়া খামু কাকনের মতোন।হিহিহি।বাচ্চাগো কইলা অনে টেস।খাবি নাকি? হিহিহি
তোর বউটাও তো পোয়াতি তাই না ছোটমিয়া? দাত খেলিয়ে হাসে সফুরণ।
তোর বউটাও তো পোয়াতি তাই না ছোটমিয়া? দাত খেলিয়ে হাসে সফুরণ।
ধরো ওকে ধরো সবাই।সফুরনকে ধরার জন্য যেতেই সুফরণ দাত খিচিয়ে ওঠে।
বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় টেনে হিচরে।মুবিন হাতজোড় করে কিন্তু উপস্থিত কেউ তার কথা শোনে না।আমার খারাপ লাগলেও এখন আর কিছু করারও নেই ।পল্লীতে এলে সবাই ঘিরে ধরে।যাদের সন্তান সফুরনের কারনে মৃত তারা লাথি পিটুনী খুব দিলো ওকে।অনেক কষ্টে তাদের ঠেকানো গেলো।
সফুরণকে গোয়ালের এক কোনে বেঁধে আমি মাত্রই এশার নামাজ শেষ করেছি।মাথায় সফুরনের শেষ কথায় বার বার বাজছিলো।আমার পরিবারের সবাই এই ছোট মিয়া নামেই চেনে।আর আমার স্ত্রীর কথায় কেন বললো?হঠাৎই শোরগোল শুনে সেদিকে গেলাম।গিয়ে দেখি মুবিনের হৃদপিণ্ডহীন লাশটা মাটিতে পড়ে আছে।সফুরনকে বাঁধার জায়গায়ও খালি। তার মানে মুবিন এসে বউকে বাচাতে চেয়েছিল কিন্তু তার বউ যে আর মানুষ না ডায়নীতে পরিণত হয়েছে তা তার বুঝতে জীবন খোয়াতে হয়েছে।বেচারার চোখের কোনে এখনও জল গড়িয়ে পড়ছে।খোলা চোখ দুটো হাতের সাহায্যে বন্ধ করে দিলাম।তারপর আবার শুরু হলো সফুরণকে।এবার আর তারা আমাকে সঙ্গে নিলো না।নিজেরাই খুজতে লাগলো হাতে মশাল লাঠি সহ।সকালে জানতে পারলাম সফুরণকে তারা রাতেই পেয়েছিল এবং তখনি তাকে জঙ্গলের কোনো এক স্থানে জিন্দা দাফন করা হয়েছে আধমরা করে।আমার কেন যেন মনে হলো সমাপ্তিটা ঠিক হয়নি। কিন্তু কিছুই বললাম না কারন তেমন সন্দেহের কিছুই আর পাই নি যতোদিন ছিলাম।কাল যখন রবিন মোবাইল করে সব বললো তখনই বুঝলাম আমার ধারণায় ঠিক সফুরণ মরে নাই।এখনো কালো ছায়া হয়ে ঘুরছে অমাবস্যার চাঁদের আলোয়।
এটুকু বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবদুর রহমান।
বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় টেনে হিচরে।মুবিন হাতজোড় করে কিন্তু উপস্থিত কেউ তার কথা শোনে না।আমার খারাপ লাগলেও এখন আর কিছু করারও নেই ।পল্লীতে এলে সবাই ঘিরে ধরে।যাদের সন্তান সফুরনের কারনে মৃত তারা লাথি পিটুনী খুব দিলো ওকে।অনেক কষ্টে তাদের ঠেকানো গেলো।
সফুরণকে গোয়ালের এক কোনে বেঁধে আমি মাত্রই এশার নামাজ শেষ করেছি।মাথায় সফুরনের শেষ কথায় বার বার বাজছিলো।আমার পরিবারের সবাই এই ছোট মিয়া নামেই চেনে।আর আমার স্ত্রীর কথায় কেন বললো?হঠাৎই শোরগোল শুনে সেদিকে গেলাম।গিয়ে দেখি মুবিনের হৃদপিণ্ডহীন লাশটা মাটিতে পড়ে আছে।সফুরনকে বাঁধার জায়গায়ও খালি। তার মানে মুবিন এসে বউকে বাচাতে চেয়েছিল কিন্তু তার বউ যে আর মানুষ না ডায়নীতে পরিণত হয়েছে তা তার বুঝতে জীবন খোয়াতে হয়েছে।বেচারার চোখের কোনে এখনও জল গড়িয়ে পড়ছে।খোলা চোখ দুটো হাতের সাহায্যে বন্ধ করে দিলাম।তারপর আবার শুরু হলো সফুরণকে।এবার আর তারা আমাকে সঙ্গে নিলো না।নিজেরাই খুজতে লাগলো হাতে মশাল লাঠি সহ।সকালে জানতে পারলাম সফুরণকে তারা রাতেই পেয়েছিল এবং তখনি তাকে জঙ্গলের কোনো এক স্থানে জিন্দা দাফন করা হয়েছে আধমরা করে।আমার কেন যেন মনে হলো সমাপ্তিটা ঠিক হয়নি। কিন্তু কিছুই বললাম না কারন তেমন সন্দেহের কিছুই আর পাই নি যতোদিন ছিলাম।কাল যখন রবিন মোবাইল করে সব বললো তখনই বুঝলাম আমার ধারণায় ঠিক সফুরণ মরে নাই।এখনো কালো ছায়া হয়ে ঘুরছে অমাবস্যার চাঁদের আলোয়।
এটুকু বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবদুর রহমান।
রবিন তুই কি করে জানলি চাচাজান আর এই বুড়ির বিষয়টা?
আমি রাঙামাটি থাকাকালীনই মেহেরকে নিয়ে নানা চিন্তায় থাকি।কারন মেহেরের এভাবে গায়েব হওয়াটা আর ঐ তিনজনের মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক লাগছিলো না।একটু খোঁজ খবর নিতেই স্থানীয় একজন এসে উক্ত ঘটনার সারসংক্ষেপ বললো।তিনিও নাকি ঐ পল্লীর বাসিন্দা ছিলো।তখন সম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে জানতে পারি চাচাজানের কথা।
ওহ!
চাচাজান তারপর কি হলো? রণো প্রশ্ন করলো
বাকিটা আমি সফুরনের নাতনী বলে যাকে তোমরা চেনো তার কাছে শুনেছি।সে বলতে তো পারে না। তবে ভাঙা ভাঙা শব্দে লিখতে পারে।তার কাছে জানতে চাইলে সে সব লিখে দেয়,,,
ঐদিন মেহের যখন গাছে মুমূর্ষু অবস্থায় ঝুলে ছিলো।তখন মেয়েটা কৌশলে ওকে ওখান থেকে উদ্বার করে।ভালো বুদ্ধি আছে মেয়েটার।গুহায় নিয়ে মেয়েটার চিকিৎসা করতে যাচ্ছিল কি বুড়ি এসে বাধা দেয়।জোর করে সরিয়ে দেয় ওকে। মুমূর্ষু মেহের যখন বাঁচার জন্য চোখের জল ফেলছে।বাঁচার আকুতি ওর চোখে মুখে। নিষ্ঠুর সফুরন রাম দায়ের এক কোপে হৃদপিণ্ডের উপরের চামড়া কেটে তাতে ডায়নিবিদ্যায় ব্যবহৃত জড়িবুটির প্রলেপ ভরে দেয়।মুমূর্ষু মেহের মুহুর্তে হয়ে ওঠে মনুষ্য রূপী বাঘিনী।মেহের আত্মাকে সম্পূর্ণ বশে নিয়ে আসে তারপর মেহেরকে ওয়াদা মোতাবেক রনি মারুফ সাহির কে সম্মোহন করে গুহায় নিয়ে এসে বেধে প্রথমে ওদের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে।তারপর সম্মোহিত কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই তিনজন যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে।ঠিক তখনি এক এক করে হাত পা কেটে কলিজা আলাদা করে মেহের সফুরনের নির্দেশে।ওদের চিৎকারে আকাশ পাতাল কাঁপে। একটা মেয়ের সম্ভ্রমে হাত দেওয়ার উপযুক্ত শাস্তিই সফুরন দিয়ে দেয় তিন জনকে।মেহেরের আত্মাকে খুশি করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। ফেলে আসে লাশ মহাসড়কের ব্যস্ততম রাস্তায়।আর তারপরেই এখানে আসে।কারন সফুরন মনে করে ওর পালক মেয়ের আত্মা মেহেরের মধ্যেই আছে।মেহেরকে তাই কিছুতেই ছাড়তে চাই না।আর কাজের মেয়েটা যেহেতু ওদের আসল রূপ রাতে দেখে ফেলে তাই তার বেঁচে থাকাটাও সফুরণ পছন্দ করে না।মেরে ফেলে ওকেও।
ঐদিন মেহের যখন গাছে মুমূর্ষু অবস্থায় ঝুলে ছিলো।তখন মেয়েটা কৌশলে ওকে ওখান থেকে উদ্বার করে।ভালো বুদ্ধি আছে মেয়েটার।গুহায় নিয়ে মেয়েটার চিকিৎসা করতে যাচ্ছিল কি বুড়ি এসে বাধা দেয়।জোর করে সরিয়ে দেয় ওকে। মুমূর্ষু মেহের যখন বাঁচার জন্য চোখের জল ফেলছে।বাঁচার আকুতি ওর চোখে মুখে। নিষ্ঠুর সফুরন রাম দায়ের এক কোপে হৃদপিণ্ডের উপরের চামড়া কেটে তাতে ডায়নিবিদ্যায় ব্যবহৃত জড়িবুটির প্রলেপ ভরে দেয়।মুমূর্ষু মেহের মুহুর্তে হয়ে ওঠে মনুষ্য রূপী বাঘিনী।মেহের আত্মাকে সম্পূর্ণ বশে নিয়ে আসে তারপর মেহেরকে ওয়াদা মোতাবেক রনি মারুফ সাহির কে সম্মোহন করে গুহায় নিয়ে এসে বেধে প্রথমে ওদের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে।তারপর সম্মোহিত কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই তিনজন যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে।ঠিক তখনি এক এক করে হাত পা কেটে কলিজা আলাদা করে মেহের সফুরনের নির্দেশে।ওদের চিৎকারে আকাশ পাতাল কাঁপে। একটা মেয়ের সম্ভ্রমে হাত দেওয়ার উপযুক্ত শাস্তিই সফুরন দিয়ে দেয় তিন জনকে।মেহেরের আত্মাকে খুশি করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। ফেলে আসে লাশ মহাসড়কের ব্যস্ততম রাস্তায়।আর তারপরেই এখানে আসে।কারন সফুরন মনে করে ওর পালক মেয়ের আত্মা মেহেরের মধ্যেই আছে।মেহেরকে তাই কিছুতেই ছাড়তে চাই না।আর কাজের মেয়েটা যেহেতু ওদের আসল রূপ রাতে দেখে ফেলে তাই তার বেঁচে থাকাটাও সফুরণ পছন্দ করে না।মেরে ফেলে ওকেও।
রণোর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।মেহেরের সাথে এতো কিছু হয়ে গেলো কিন্তু রণর কিছুই করার ছিল না।রবিন রণর কাধে হাত রেখে স্বাত্বনা দিলো।
সবই তো বুঝলাম।কিন্তু বুড়ি যেহেতু নিঃসন্তান তবে এই নাতনী এলো কোথা থেকে?
এটা বুড়ির আপন কেউ না।বুড়ি এরও ক্ষতি করতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নি কারন মেয়েটি জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের মুখে গরম কয়লা নিয়েছিল।এতে করে ওর জিহ্বা কিছুটা পুরে যাওয়ায় মেয়েটি বাক শক্তি হারায়।খুত মানুষকে বলি দিলে বলি কবুল হয় না।তাই বুড়িও নিজের প্রয়োজনে রিমাসাকে কাছেই রেখেছে।
রিমাসা? রবিন শব্দ করে বলে উঠলো বিস্ময়ে
হ্যাঁ রবিন! এই তোমার স্ত্রী। মাহিদা চৌধুরীর আরেক মেয়ে।মেহেরের জমজ বোন।ভাগ্য আবার ফিরিয়ে দিয়েছে তোমার কাছে।ওর চিকিৎসা করাইয়ো ঠিক হয়ে যাবে সব।
রবিন চরম আনন্দ ফিল করলো।হাত পা কাঁপা শুরু করলো।ওর রিমাসায় তাহলে মেয়েটি।আল্লাহ দোয়া কবুল করেছে ফিরিয়ে দিয়েছে ওর হারানো সাথীকে।ইচ্ছা করছে এখনি দৌড়ে গিয়ে বুকে লুকিয়ে রাখতে।চোখে জল এসে গেছে খুশিতে রবিনের
রবিনের মনোভাব বুঝতে পেরে চাচাজান ওর হাত ধরে ফেললো।
ওদিকে যেয়ো না।মেহেরকে কালো জাদু থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছে রিম।ও চিনেছে সবাইকে।আমাকে সাহায্যও করেছে এ বিষয়ে।বোনকে সুস্থ করেই দরজা খুলবে ততক্ষণ একটু কষ্ট কর বাপ।
আমি এখন যাই।বুড়ির সাথে থেকে রিমাসাও অনেক কিছু জানে তবে সেটা ভালো কিছু।পাহাড়ী চিকিৎসা। আশা করা যায় মেহেরকে আল্লাহর রহমতে ও ভালো করে তুলবে।
আমি এখন যাই।বুড়ির সাথে থেকে রিমাসাও অনেক কিছু জানে তবে সেটা ভালো কিছু।পাহাড়ী চিকিৎসা। আশা করা যায় মেহেরকে আল্লাহর রহমতে ও ভালো করে তুলবে।
সবার কাছে বিদায় নিয়ে রবিন রণর সাহায্যে বুড়িকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে আবদুর রহমান চলে গেলো।কোথায় গেলো রণর এমন প্রশ্নের জবাবে নিরুত্তর ছিল রবিন।রাগে গা জ্বলে মাঝে মধ্যে রবিনের এরূপ নির্বিকার ভঙ্গি দেখলে।বললে কি গা ক্ষয় হয়ে যাবে যে বললো না।রবিন রণকে বলে না চাচাজান বুড়িকে মেরে ফেলার জন্যই নিয়ে যাচ্ছে। আইনের লোক হয়ে রণ বেআইনি কাজ করতে দেবে না সেটা রবিন জানে।কিন্তু রণ তো জানে না এরা বেঁচে থাকলে মানুষের জন্য কতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।তাই চুপ রয়ে গেলো রবিন।রবিন রণ দুজনেই আজ খুশি তাদের প্রিয়তমা ফিরে এসেছে।রণ মনে মনে পণ করে মেহেরকে আর কষ্ট পেতে দেবে না।ভালোবাসা দিয়ে ভুলিয়ে দেবে ওর অতীত।
১ বছর পর,,,,,
রবিন রিম সুখী দম্পতী।তাদের ঘর আলোকিত করে খুব শীঘ্রই আসবে দুজন।হ্যাঁ রিম টুইন বেবির জন্ম দিতে যাচ্ছে। রিমের অতীত এখনও মাঝে মধ্যে দুঃস্বপ্ন হয়ে ভীর করে।কিন্তু রবিনের ভালোবাসা আর কেয়ারের কাছে সব ধোঁয়াশা হয়ে যায় মুহুর্তেই।
রবিন রিম সুখী দম্পতী।তাদের ঘর আলোকিত করে খুব শীঘ্রই আসবে দুজন।হ্যাঁ রিম টুইন বেবির জন্ম দিতে যাচ্ছে। রিমের অতীত এখনও মাঝে মধ্যে দুঃস্বপ্ন হয়ে ভীর করে।কিন্তু রবিনের ভালোবাসা আর কেয়ারের কাছে সব ধোঁয়াশা হয়ে যায় মুহুর্তেই।
রিম আসবো!
হ্যাঁ মেহের আয়।
কি করছিস?
এই তো দুপুরের ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিছু বলবি?
না মানে! রিম রণকে আমি ভালোবাসি রে।ওর কেয়ারনেস আমাকে মুগ্ধ করে।মনে হয় জিজুর মতোই একজন ভালো মনের মানুষ রণ।আমি জানি আমি ওর যোগ্য না।হয়তো ও নিজেও আমাকে ওতো পছন্দ করে না।
জিজুর মতো না।রণ ভাই সত্যিই ভালো।আর হ্যাঁ রণ তোকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসে আমি আর রবিন এটা জানি।এজন্যই তো এ বাড়ি আসে।তোকে সময় দেয়।
কি বলছিস? সত্যি? খুশিতে লাফিয়ে ওঠে মেহের।
হুমম রে হুমম।সত্যি। আম্মুর সাথে রবিনের কথাও হয়ে আছে শীঘ্রই তোদের চার হাত এক করে দেবে।
বোনের কথা শুনে লজ্জা মিশানো খুশিতে দৌড়ে ঘরে চলে যায়।আজ অনেক খুশি লাগছে মেহেরের।মনে হতে লাগে সব সুখ যেন ধরা দিচ্ছে।অতীত বিভৎসতা যেন সব ভুলে গেছে মেহের রণর ভালোবাসায়।বিশ্বাস করতে শিখেছে নতুন করে।
রাতে রবিনের সাথে রণও এসেছে দেখে মেহের খুশি হয়।নিজেই খাবার বেড়ে দেয় ওদের।রণর সাথে বেশ কিছুক্ষণ মধুর আলাপনও চলে।আজ নাকি রণ এখানেই থাকবে শুনে মেহেরের খুশি দ্বিগুন হয়ে যায়।
গেষ্টরুম টা নিজে হাতে গুছিয়ে দেয় রণর জন্য।তা দেখে রণর ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফোটে।
গেষ্টরুম টা নিজে হাতে গুছিয়ে দেয় রণর জন্য।তা দেখে রণর ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফোটে।
রাত ৩
বাড়ির সবার চোখে রাজ্যের ঘুম নেমেছে। হঠাৎই বাইরে কুকুরের ডাকে চোখ খোলে রিম।বিছানায় কিছুক্ষণ শুয়ে কুকুরের ডাক থামার অপেক্ষা করে।অচেনা বা অশুভ কিছু দেখলেই কুকুর চিৎকার করে কারন আমাদের যা দেখার ক্ষমতা নাই কুকুরের তা আছে।না এখনও ঘেউ ঘেউ ডাকছে কুকুর।এভাবে কি ঘুমানো সম্ভব।রিম পাশে ঘুমন্ত রবিনকে আস্তে করে পাশ কাটিয়ে পেট টা ধরে সতর্কতার সাথে নিচে নামে।নিচে নেমে ধীর পায়ে পর্দাটা খুব আস্তে সরিয়ে নিচে চোখ বোলাতে লাগলো।কুকুরগুলো যেদিকে ফিরে প্রাণপণে চিৎকার করে যাচ্ছে সেদিকে তাকাতেই দেখে রক্ত মুখে হলদেটে দাঁত বের করে কুকুরের সাথে দাঁত খিচচ্ছে কালো কাপড়ে ঢাকা সফুরণ।
হঠাৎ করেই সফুরণের দৃষ্টি আকাশের দিকে গেলে রিমও তাকায় আকাশে।কালো মেঘে ঢেকে আছে চাঁদ টা।তার মানে আজ অমাবস্যা? পেটের মধ্যে মোচর দিয়ে ওঠে রিমের।অমাবস্যার চাঁদের আলোয় ডায়নী আবার ফিরে এসেছে,,,,,,,
হঠাৎ করেই সফুরণের দৃষ্টি আকাশের দিকে গেলে রিমও তাকায় আকাশে।কালো মেঘে ঢেকে আছে চাঁদ টা।তার মানে আজ অমাবস্যা? পেটের মধ্যে মোচর দিয়ে ওঠে রিমের।অমাবস্যার চাঁদের আলোয় ডায়নী আবার ফিরে এসেছে,,,,,,,
🌑🌑🌑সমাপ্ত🌚🌚🌚
