ভালোবাসার ছোট গল্প গুলোঃ

আপু রাহাত ভাইয়া তোকে ডাকছে বলেছে ছাদে যেতে।
আমি তপু মানে আমার ছোট ভাইটার কথা শোনে থমকে গেলাম। রাহাত ভাইয়া ডাকছে !
এমনিতে আমাদের পাড়াতে রাহাত ভাইয়ার অনেক সুনাম একজন ভালো, ভদ্র সুশীল ছেলে। ভালো একটা জব ও করে।
আমি কিছু না বলে বসে আছি হা করে। হঠাৎ কি মনে করে তলব এরকম তো কখনো হয়নি। অন্যকিছু নাকি..!
আপু দেখ, বিষয়টা আমি আর কারো কাছে শেয়ার করব না তুই যে রাহাত ভাইয়া কে পছন্দ করিস তা জানি। আগামীকাল আমার বন্ধুর বার্থডে আমাকে মাত্র ৩০০ টাকা দিলে ই চলবে।
ছোট ভাইটার কথা শোনে আমার চোখ আরো বড় বড় হল। পছন্দ করি তা না একজন ভালো ছেলে তাই সেই হিসেবে ভালো লাগে। এই পিচ্চিটা এসব কি বলে ক্লাস নাইনে পড়ে।
আপু রাহাত ভাইয়া অপেক্ষা করছে। আমার টাকাটা দিয়ে চলে যা।
কিসের টাকা যেন সে আমার কাছে পাওনা টাকা আদায় করছে।
আচ্ছা, আমি আম্মুকে বলব তুই এই অসময়ে ছাদে গেছিস। তাহলে হবে তো!
কি কারণে জানি ভালো লাগল ছাদে যাওয়ার কথা শোনে। আম্মুর কানে এসব গেলে তো আমি শেষ। তাই ব্যাগ থেকে ১৫০ টাকা বের করে তপু দিয়ে বললাম আপাতত এই টাকায় কাজ চালা আর নেই।
ছাদে যেতে ই দেখি রাহাত ভাইয়া দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে স্বাভাবিক কথাবার্তা টুকটাক পড়াশোনার কথা হল। চলে এলাম পরে ঘরে। এভাবে ছাদে এরকম ভাবে কথা হবে কখনো ভাবিনি। অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে রাহাত ভাইয়া। অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করল মনে।
এভাবে ২/৩ দিন পর পর বিকেলে তপু এসে আমাকে ছাদে যেতে বলে রাহাত ভাইয়া ডেকেছে বলে। তার বিনিময়ে সন্ধ্যায় ফাস্টফুডের টাকা, ব্যাডমিন্টন এর শেটেল কার্ক এর টাকা মাঝে মাঝে ক্রিকেট বলের টাকাও তপুকে দিতে হয়।
আমি এসব দিতে দিতে ফকির হওয়ার উপক্রম। এখনো বাবার টাকায় চলি।
আজ বিকেলে ছাদে গিয়ে খানিকটা উদাস দেখলাম। কি হয়েছে জানতে অনেকক্ষণ পরে বলেন, আন্টি নাকি উনার জন্য মেয়ে দেখছেন।
আমি একথা শুনে কিছুটা থমকে যাই। এই বেশ কয়েক দিনের কথাবার্তায় অনেকটা দূর্বল হয়ে পরেছি আমি। কিন্তু একটা জিনিষ বুঝতে পারলাম না তাহলে এভাবে ডেকে ডেকে আমার সাথে কথা বলার কি দরকার ! কিরকম একটা খারাপও লাগল কথাটা ভেবে। হয়ত শুধু বন্ধুত্ব বা এমনি কথাবার্তা বলা আর কিছু না।
আমি সেদিন কিছু না বলে চলে আসলাম।
২ দিন আর কোনো খবর আসেনি। ৫ম দিন তপু এসে বলল ছাদে যেতে বকশিশ সরুপ ওর বন্ধুরা আসবে নাস্তা বানিয়ে দিতে। আরে এটা তো আমি এমনি বানিয়ে দিতাম এখানে বকশিশের কি!
এই লাস্ট আপু ছাদে যা। আর এভাবে ছাদে যেতে হবে না।
কথাটা শুনে কোথায় একটা ধাক্কা লাগল। কষ্ট পেলাম এইশেষ হয়ত..! কিছু না বলে ছাদে গেলাম।
গিয়ে টুকটাক কথা। হঠাৎ রাহাত ভাইয়া বলল, দেখ ইরা আমার জন্য মেয়ে ঠিক করেছে মা। দেখতে সুন্দরি, শিক্ষিত, মার্জিত ঠিক ই আছে। কিন্তু..
তা করছেন কেন বিয়ে করে ফেলুন। শুভ কাজে দেরি করতে নেই।
ঠিক তখনই হঠাৎ পেছন থেকে তপু এসে জোড়ে জোড়ে বলল কি হচ্ছে টা কি এখানে।
দেখ রাহাত ভাইয়া, তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগে মানুষ হিসেবে অনেক ভালো। তাই আমি তোমাকে আমার দুলাভাই বানাতে চেয়েছি। এখন যদি অন্যকোনো মেয়েকে বিয়ে কর তাহলে সোজা আন্টির গিয়ে বলব আমার বোনের সাথে প্রেম করে এখন অন্যকাউকে বিয়ে করছ !
আমি হা করে তাকিয়ে আছি তপুর দিকে ! কি বলছে কি এসব !
দেখ আপু এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। একটা ভালো মানুষ পাবি আমি ঠিক করে দিলাম সেজন্য তো একটু বকশিশ চাইতে ই পারি। এতে দোষের কিছু না। আমি জানি তুই একটু একটু পছন্দ করিস ভাইয়াকে তাই অন্ধকারে ঠিল মেরেছি। আমি ই তোকে মিথ্যে বলে ছাদে পাঠাতাম।
এসব কথা শুনে রাহাত এমন ভাবে হাসছিল আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম।
দেখ ভাইয়া, আমার আপুকে ছাড়া অন্য কোথাও কিভাবে বিয়ে কর দেখে নিব কিন্তু।
রাহাত হাসতে হাসতে বলল, আচ্ছা শ্যালক সাহেব আমার কথাটা কিন্তু শেষ করতে দাওনি পুরোটা…
ভাবছি, এমন ভাই থাকতে আর কিছু লাগে…!
ছোট্ট ভাই
ফাবিহা ফেরদৌস
২১/১১/১৯
ফাবিহা ফেরদৌস
২১/১১/১৯